ESC

আর্কাইভে অনুসন্ধানের জন্য অন্তত ২টি অক্ষর লিখুন।

লগ ইন নিবন্ধন করুন
← আর্কাইভে ফিরুন

December 2017 15th Year 23rd Issue

Issue 220510093113 · Published May 2022

· ·

সংখ্যার বিবরণ

সংখ্যা
220510093113
প্রকাশনার বছর
2017
ISSN
1488-0792
ডিজিটাল প্রবেশাধিকার
৳200 / $2.00
মুদ্রিত সংস্করণ
৳300 / $3.00
প্রিন্ট + ডিজিটাল
৳500 / $5.00 + ডেলিভারি
December 2017 15th Year 23rd Issue Cover

ছবির কথা / About Cover Art

হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ তার নিজস্ব বাসভূমিকে চিত্রিত করে এসেছে দেওয়াল চিত্রের মাধ্যমে। দেশে দেশে এই দেওয়াল চিত্রের রকম আলাদা আলাদা হয়। সর্বত্র যে জিনিসটার মিল পাওয়া যায় তা হল জীবনের সব কিছুর মধ্যের ছন্দবদ্ধতা। এই গ্রহের কোনও কিছুই ছন্দের বাইরে বিরাজ করে না। আমি সেই ছন্দকে নিজের মতো করে আবিষ্কার করার চেষ্টা করি। আমার ছােটোবেলায় দেখা স্মৃতি আজও আমাকে তাড়িত করে। বিহার ও বাংলার সংযোগস্থলে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের এমন বহু দেওয়াল চিত্র আমার চেতনাকে উৎসাহিত করে। সেই কারণে আমি চিত্র পট তৈরি করি মাটির প্রলেপ দিয়ে। এর ফলে খণ্ড একটি দেওয়ালের অংশ চিত্রিত করতে আনন্দ পাই। শহর অথবা গ্রাম, যে কোনও জীবনের আনন্দ উৎসব, প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ড আমার ছবির বিষয় বস্তু। উগ্র আধুনিকতার চাপে হারিয়ে যেতে বসা যে জীবন তাকে আমার মতো করে চিত্রপটে ধরে রাখার চেষ্টা করি।
বিশ্ব প্রকৃতিতে মানুষের অবস্থান এবং তার ক্রিয়াকর্ম ও জীবনযাপন আমার ছবির বিষয়বস্তু। পশ্চিমবঙ্গেশঙ্করপুর ও দক্ষিণ ভারতের সমুদ্রের ধারের বেশ কিছু অঞ্চল ঘুরে অমূল্য সব অভিজ্ঞতা লাভ করি। ওইসব অঞ্চলের মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রা আমাকে কৌতুহলী করে। ছবিতে রূপান্তরিত হয়েছে সেইসব অভিজ্ঞতা। ছবি করার আগে কাগজের ওপর কাপড় আঠা দিয়ে বসিয়ে মাটি দিয়ে দেওয়াল-লেপার মতো একটা আস্তর তৈরি করি। এরপর ছবিটাআঁকি গুঁড়ােরঙের সঙ্গে আঠা মিশিয়ে টেম্পারা পদ্ধতিতে। এই ছবিটির সৃষ্টি ২০০৪ সালে।

শেষ পাতা / Back Cover

December 2017 15th Year 23rd Issue Back Cover

Explore the design and details featured on the back cover of ‘December 2017 15th Year 23rd Issue’.

সম্পাদকীয় / Editorial

সম্পাদকীয়

রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ উপলক্ষে বাংলা জর্নালের বর্তমান সংখ্যার পরিকল্পনাটি বিগত দুই বছর ধরে মাথায় ঘুরছিল। এ উপলক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ভাষায় নানা ধরনের আলোচনা, পর্যালোচনা ও প্রকাশনার সম্ভাবনা আঁচ করেই আমাদের মনোযোগ বাংলায় ওই বিপ্লবের প্রভাব নিয়েই সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিই। বিষয়টি ঘিরে জর্নালের লেখা আহ্বান সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিটি চূড়ান্ত করার মুহূর্তে ঘটে ফিদেল কাস্ত্রোর জীবনাবসান। ফলে বিরাজমান বিশ্ববাস্তবতায় তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসাবে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার ভূমিকা নির্ণয়ে রুশ বিপ্লবের ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গিকতা আমাদের কাছে আরও বড়ো হয়ে দেখা দেয়।

বাঙালির সমাজ ও রাষ্ট্রভাবনা, রাজনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতিটি স্তরেই রুশ বিপ্লবের প্রভাব হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী ও সুদূরপ্রসারী। বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান দুই কাণ্ডারি রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল ছাড়াও ওই বিপ্লব এবং সমাজতান্ত্রিক আদর্শ নানাভাবে প্রভাবিত করেছিল মানবেন্দ্রনাথ রায়, সুভাষ বসু ও মুজফ্‌ফর আহমেদের মতো বিপ্লবী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের। রুশ বিপ্লবের প্রভাব বাংলায় জন্ম দিয়েছে বামপন্থি ও শ্রেণিসচেতন রাজনীতির, সংহত করেছে কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থীসহ নানা পেশা ও শ্রমজীবীদের সংগঠন ও আন্দোলনের; প্রেরণা জুগিয়েছে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাম শাসন চলেছে পশ্চিমবঙ্গে তেম...
সম্পূর্ণ সম্পাদকীয় পড়ুন →

প্রবন্ধ

  • বড় ধরনের যন্ত্রণা পাই কিসের জন্য নিজে জানি না (শক্তি চট্টোপাধ্যায়) বিজ্ঞানের জগৎ আর মানবিক বিদ্যার জগতের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা নিয়ে একটা বিতর্ক বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে হাজির করেছিলেন সি পি স্নো১। তারপর কালের নিয়মে তা একসময় থিতিয়ে গেছে। দুই সংস্কৃতি (two culture) এই বাক্যবন্ধ আজ সেই ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে।

  • মানব চৈতন্যের কোন প্রদোষকালে প্রথম ধ্বনি উচ্চারিত হয়েছিল বা ছন্দোময় কোনও পঙ্‌ক্তির আভাস বেজে উঠেছিল কোনও একজন দশাপ্রাপ্ত মানুষের কণ্ঠে এবং কীভাবে তা গোত্রভুক্ত অন্য মানুষের সাথে যোগাযোগ সক্ষম হয়ে উঠেছিল আমরা জানি না; বিবর্তনের আদি পর্যায়ে ছন্দোবদ্ধ শ্লোক, মন্ত্র বা কাব্য কোনও না কোনওভাবে মানুষের যৌথ জীবনযাপনের সাথে সম্পৃক্ত ছিল বা তাকে চালিত ও প্রভাবিত করত, কারণ ব্যক্তিপ্রতিস্বের আবির্ভাব তখনও ঘটেনি।

  • শত বৎসর পূর্বে সমাজের সবচেয়ে লাঞ্ছিত, নিপীড়িত মানুষ রক্তের অক্ষরে এক অনন্যসাধারণ ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল পৃথিবীর বুকে। লাঞ্ছনা অবমাননার বিরুদ্ধে সকল যুগের সকল মহৎপ্রাণ মানুষই প্রতিবাদ করেছেন। অবমাননায় ব্যথিত হয়েছেন—এমনকি সমগ্র জীবনব্যাপী সংগ্রাম করেছেন এই অসাম্যকে দূর করতে।

  • আমি স্কুল-কলেজে ভালো ছাত্র ছিলাম। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় আমার ফল ভালো হয়েছিল। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলাম, চিকিৎসাবিজ্ঞান কিংবা প্রকৌশলবিদ্যা পড়ার জন্য মেডিকেল কলেজ কিংবা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করতে পারতাম। কিন্তু করিনি। আমার ইচ্ছা ছিল সাহিত্য পড়ব। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলাম।

  • যে সময়ে আমি ১৭-১৮, সেই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে নকশালবাড়ির গণ অভুত্থান হয়ে। গেছে। আমার বন্ধুরা কেউ কেউ ঘর ছেড়েছে। সোভিয়েত রাশিয়াকে তখন সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদ নামে যথেচ্ছ গালাগালি দেওয়া হত। দেওয়ালে দেওয়ালে লেখা হত চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান। কত সব স্লোগান লেখা হত, উচ্চারিত হত। একটি ছিল আমার খুব পছন্দের, গ্রামে ‘গ্রামে ডাক পাঠাও, জোট বাঁধো তৈরি হও।’ সেই ১৭ থেকে ২২-২৩ বছর বয়স ছিল ভয়ের সময়। পুলিশি সন্ত্রাস নেমে এসেছিল সেই সব বিপ্লবীদের শেষ করে দিতে। দুই প্রতিভাবান কবি, বিপ্লবী কবি তিমিরবরণ সিংহ এবং দ্রোণাচার্য ঘোষের মৃত্যু হয়েছিল পুলিশের হাতেই। জেলখানায়। সরোজ দত্তের নিহত হওয়ার কথা নতুন করে বলার নয়।

  • আমার জন্ম হয়েছিল সদর সিলেটে। তবে আমার ছেলেবেলা অর্থাৎ স্কুল জীবন কেটেছিল করিমগঞ্জে। দেশভাগের আগে করিমগঞ্জও ছিল শ্রীহট্টেরই একটি মহকুমা, কিন্তু দেশভাগের পরে সেটা চলে যায় শিলচরের অধীনে। আমার ছেলেবেলার স্কুল জীবন কোন করিমগঞ্জে কেটেছিল? সেটা ছিল সৈয়দ মুজতবা আলির শহর। পরে যখন মুজতবা আলির সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল, তখন আমার ছেলেবেলা করিমগঞ্জে কেটেছে শুনে তিনি যেমন আশ্চর্য হয়েছিলেন, তেমনি আনন্দিত হয়েছিলেন।

  • বিপ্লবের স্বপ্ন প্রথম এসেছিলাম ১৯৬৭ সালে এক বছরের জন্য মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ফেলোশিপ নিয়ে। তখন সেটা ছিল স্বপ্নের দেশ। স্বপ্ন সাদা-কালো হয় না রঙিন হয় ঠিক বুঝতে পারি নে। কিন্তু যখনকার স্বপ্নের কথা বলছি তখন হয়তো সাদা-কালোতেই দেখতাম--দেখতাম সাদা-কালো ছায়াছবি আর স্থিরচিত্রের মাধ্যমে--অধিকাংশই তখন পর্যন্ত হত সাদায়-কালোয়। কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না। দেশটার অনেকটাই আমার আগে থাকতে জানা হয়ে গিয়েছিল সেই সুবাদে।

  • And of me I must say That following serenely, Without fear of the lightning and thunder I am working out the future. —Jose Marti ভূমিকা ১৯৬০ দশকে ক্যুবা ও ভারতের চলচ্চিত্রে বেশ কতকগুলি র‍্যাডিক্যাল পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। সত্যি কথা বলতে কি, কেবল ক্যুবা বা ভারত নয়, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের চলচ্চিত্রে এই দশকে গুরুত্বপূর্ণ সব পরিবর্তন দেখা যায় যা কিনা বিশ্বব্যাপী ‘সিনেমা অব লিবারেশন’-এর জন্ম দেয়। এইসব ছবির উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের তীব্র বিরোধিতা করা এবং আর্ট ফিল্ম নামক ইউরোপীয় ধারণার ‘সমালোচনা’ করা। এই প্রতিরোধমূলক চলচ্চিত্রগুলি চাইছিল এমন এক ধারা তৈরি করতে যা উত্তরৌপনিবেশিক শ্রেণিবিভক্ত সমাজে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ব্যর্থতা-সাফল্য, প্রতিরোধ-প্রতিবাদের কথা বলবে। সে চলচ্চিত্র কথা বলবে তার নিজস্ব ভাষায়। সে ভাষা হলিউডের কন্টিনিউইটি এডিটিং-নির্ভর পেলব ভাষা নয়, আবার ইউরোপীয় আভা-গার্দ শিল্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘আর্ট’-এর এলিট ভাষাও নয়। এ ভাষা হবে তৃতীয় ধারা।

  • এক ব্রিটিশ ভারতে অনেক ভারতীয় বই-ই নিষিদ্ধ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল, তার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য একটি বই হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাশিয়ার চিঠি। ১৯৩৪ সালে দি মর্ডান রিভিউ পত্রিকার জুন সংখ্যায় প্রকাশিত হয় রাশিয়ার চিঠি-র ‘উপসংহার’ অংশের অনুবাদ, অনুবাদকের নাম ছিল শশধর সিংহ। প্রকাশের প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ সরকার মর্ডান রিভিউ-র সেই সংখ্যাটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, এবং একই সঙ্গে রাশিয়ার চিঠি-র ‘সম্ভাব্য অন্যান্য অনুবাদ’-কেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

  • ‘যীশু আজ বেঁচে থাকলে গেরিলা যোদ্ধা হতেন।‘ কামিলো তোরেস (১৯২৯-১৯৬৬) অধর্মের লৌকিকতা দুরপিন শা দরবেশ সম্ভবত ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষপাদে সখেদে গাইছেন, ‘নমাজ আমার হইল না আদায়’। গানটির মধ্যে বিস্তারিত বলা আছে কী কী কারণে সাধারণ খেটে-খাওয়া গরিব মানুষের ধর্মাচরণ হয় না। ফজরের নামাজের সময় সে ছিল ঘুমের ঘোরে, জোহর কাটলো যাতায়াতে, আসর কাজের ধান্ধায়, মগরিবের সময় সে গেল গরু খুঁজতে, আর এশা-র সময় ‘গিন্নি বলেন চাউল ফুরাইছে; ছাইলা-মাইয়ার কান্দন শুইন্যা কান্দে পাগল দুরপিন শায়ে’।

  • মানবেন্দ্রনাথ রায় (১৮৮৭-১৯৫৪) নামে খ্যাতি অর্জনের আগে তিনি ছিলেন নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। স্বদেশি আন্দোলন (১৯০৬-০৭) থেকে ইন্দো-জার্মান ষড়যন্ত্রের (১৯১৫) মধ্যবর্তী বছরগুলোয় কলকাতা এবং আশেপাশের অঞ্চলে জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী গুপ্ত সমিতির দক্ষ কর্মী ও সংগঠক হিসেবে পুলিশের খাতায় তাঁর রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশ। মার্কিন মুলুক থেকে মেহিকো যাত্রা, লেনিনের সঙ্গে কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের মঞ্চে ঔপনিবেশিক দুনিয়ায় শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে সাম্যবাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক তাঁকে মানবেন্দ্রনাথ রায় করে তোলে। ছদ্মনাম হয়ে দাঁড়ায় প্রকৃত নাম। হারিয়ে যায় পুরোনো বিপ্লবী ধারার রেশ। নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক জীবন, সামাজিক অস্তিত্ব ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। জাতীয়তাবাদী চরমপন্থা নিম্ন মধ্যবিত্ত হিন্দু ভদ্রলোক যুবক সমাজকে আকৃষ্ট করেছিল। সে পরিবেশে শ্রমজীবী মানুষ বড়োজোর ছিলেন করুণার পাত্র। বিপ্লবের নেতৃত্ব তাঁদের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা গোড়ার দিকের জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীরা কল্পনা করতে পারেননি। নরেন্দ্রনাথ এই রাস্তায় চলছিলেন। কিন্তু ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের ঝাপটায় দিক বদলে যায়।

  • অক্টোবর বিপ্লবের খবর যখন ভারতে এসে পৌঁছায় তখন একদিকে মুক্তিকামী অনেক মানুষ, বিশেষত তরুণদের উদ্দীপ্ত করে অন্যদিকে ব্রিটিশ শাসকদের ত্রস্ত করে তোলে। ব্রিটিশ-ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি যখন গঠিত হয় তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বহু ধরনের তৎপরতা শাসকদের এমনিতেই ব্যতিব্যস্ত করে রাখছিল। অক্টোবর বিপ্লব ধ্বংস করতে যেসব সাম্রাজ্যবাদী শক্তি রাশিয়ার ওপর সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছে তাদের মধ্যে ব্রিটিশ সরকারও ছিল। তাই ভারতে কমিউনিস্ট তৎপরতার বিষয়ে সরকারের আগাম সতর্কতা ছিল। সেজন্য প্রথমেই ধরপাকড় নিপীড়ন শুরু হয়। বইপ্রচারপত্রসহ সব ধরনের বিপ্লবগন্ধী তৎপরতা নিষিদ্ধ ছিল। এই অঞ্চলে কমিউনিস্ট আন্দোলনের গোড়াপত্তনকারীদের একজন কমরেড মুজফ্‌ফর আহমদ। তাঁর কাছ থেকে এসবের বহু খবর পাওয়া যায়।

  • পটভূমি ১. অক্টোবর বিপ্লবের ফলে রুশাতঙ্কের মাত্রা বেড়ে গেলেও ভারতবর্ষের ব্রিটিশ শাসকদের জন্য এই আতঙ্কের রয়েছে একটি পূর্ব ইতিহাস। আর ব্রিটিশের এই রুশাতঙ্ক রবীন্দ্রনাথকে দিয়ে তার ছেলেবেলাতেই একখানা রাশিয়ার চিঠি’ লিখিয়ে নিয়েছিল। তখন রবীন্দ্রনাথের বয়স মাত্র আটবছর। পরবর্তীকালে জীবনস্মৃতিতে রবীন্দ্রনাথ ঘটনার বিবরণ লিখেছিলেন। নিম্নরূপ: বেশ মনে আছে, আমাদের ছেলেবেলায় কোনো এক সময়ে ইংরেজ গভর্নমেন্টের চিরন্তন জুজু রাশিয়া কর্তৃক ভারত আক্রমণের আশঙ্কা লোকের মুখে আলোচিত হইতেছিল। কোনো হিতৈষী-আত্মীয়া আমার মায়ের কাছে সেই আসন্ন বিপ্লবের সম্ভাবনাকে মনের সাথে পল্লবিত করিয়া বলিয়াছিলেন। পিতা তখন পাহাড়ে ছিলেন।

  • গত প্রায় এক বছর ধরে বিংশশতাব্দীর অন্যতম ঘটনা, যুগান্তকারী অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব নিয়ে আলোচনা চলছে। পক্ষে ও বিপক্ষে সহস্র মতামত, দৃষ্টিভঙ্গি, পুনর্মূল্যায়ন পর্ব চলছে। অনেকে মনে করেন যে, এই ঘটনা রুশ দেশ তথা বিশ্বসমাজব্যবস্থাকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছিল। যার দরুন রুশদেশ ও সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রে বহু প্রাণহানি থেকে শুরু করে অজস্র নঞর্থক ঘটনা ঘটে। অপর দিকে রয়েছেন আর এক দল। যাঁরা মনে করেন যে মানবজাতির মঙ্গলের দিক দিয়ে এই বিপ্লবের গুরুত্ব অপরিসীম। অবশ্য এমনও অনেকে আছেন যাঁরা মনে করেন যে, শতবর্ষ পুরোনো এই ঘটনার আজকের দুনিয়ায় কোনও প্রাসঙ্গিকতাই নেই, তাই এটিকে ভুলে যেতে পারলেই ভালো।

কবিতা

গল্প

  • কেঁ ও ও খ্র র র স। ওপরের কব্জাটা না থাকায় বন্ধ কিংবা খোলার সময় টিনের গেটটা মাটিতে ঘষটে আওয়াজ ওঠে। কব্জাটা বহুদিন ধরেই ল্যাকপ্যাক করছিল। জানানও দিচ্ছিল নিজের নড়বড়ে অবস্থার কথা। তবুও মালিকের কোনও হেলদোল নেই দেখে একদিন খসে পড়েছে। সেই খবরও মালিক পাছে না রাখে যেন তাই উপহার দিয়ে গেছে ওই বিশ্রী শব্দটা। অন্যমনস্ক দশায় শব্দটা প্রায়শই পিলে চমকে দেয়। তবুও নীলকান্ত একইরকম নির্বিকার। ভেবেছেন, মন্দ কী, কলিং বেলের কাজ তো হচ্ছে। অনেক বাড়িতে এর থেকেও বিশ্রী শব্দের কলিং বেল থাকে। কিন্তু এখন আচমকা সেই কলিংবেলের শব্দে ভ্রূ কুঁচকে উঠল, আবার কে!

  • সকালের রাউন্ড শেষ করে অফিসঘরে এসে বসেছি। শীতের সদ্য-ওঠা রোদে ওয়ার্ডের সামনে একগুচ্ছ লোকের জটলা চোখে পড়ছে। রাস্তার ওপারের চায়ের দোকানের ছেলেটা বারান্দা পেরিয়ে, সিঁড়ি পেরিয়ে খালি কেটলি হাতে লাফাতে লাফাতে চাতালে এল। ছাই ছাই রঙের ঘাড়মোটা বেড়ালটা ডাস্টবিনের পাশে গিয়ে রোঁয়া ফুলিয়ে ধ্যানমগ্ন হল, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওর ধ্যানের তীব্রতা বাড়ে, আগেও দেখেছি। দরজা খুলে হলুদ ফাইলের গোছা হাতে ঘরে ঢুকলেন নতুন মেট্রন।

  • ১৯৪৭-এ জন্মগ্রহণকারী এই মানুষ--যিনি বলেন প্রিয় স্মৃতি ‘মাইজদি কোর্ট’ এবং প্রিয় স্থান ‘নয়াকৃষির বিদ্যাঘর’, তাঁকে এক-দু’বার কারারুদ্ধ হতে হলেও ২০১৭-এর কোনও এক সকালে আমরা নানান বলা-কওয়া করে মানুষটিকে অপহরণ করি। লোকটি ওষুধবিজ্ঞান পড়েছেন, আবার সুবহ-সাদেকের সময় ব্যক্তিগত ওষুধ কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হন—এই ভাবনায় আমরা ভীত হই, উদ্বিগ্ন হই এবং জ্ঞাতিকুলের ক্ষোভ-অভিশাপ পাড়ি দিতে দিতে, সেলাই করা টাক মাথা নিয়ে মুখহীন-চক্ষুহীন হই। পাথরের পোশাক পরে কেউ কেউ তাঁর শিয়রে-পাশে-পায়ের কাছে পাহারা দেয়— আমরা বিষয়টি জেনেও এখন লজ্জিত ও অপরাধী হই, লোকটিকে সজাগ করার ইচ্ছে গোপন করেছি অনেকদিন।

  • This book is a brilliant exposition of the origin of capitalist colonialism and imperialism and its sustenance. The two major planks of the book are its demonstration of the fallacy of the Ricardian theory of comparative advantage and the necessary depression of the incomes of the Third World peasantry (and artisans), and later on, of the workers of the metropolitan countries as well under capitalist imperialism.

  • Pravat Chakraborty was born in 1901, at Tipperah in colonial Eastern India. Coming from a middle-class Hindu upper-caste family, he was attracted by the Swadeshi Movement-generated anti-colonial political climate in Eastern Bengal. He joined Anushilan Samiti, one of the two principal revolutionary nationalist groups while in school. In 1921, at the peak of Non-Cooperation-Khilafat Movements, which turned into a post-First World War upsurge against British imperialism, he responded to an appeal from Indian National Congress to boycott colonial education institutions and left college along with many Hindu and Muslim students. Subsequently, his engagement with AnushilanSamiti deepened. He briefly worked with other young revolutionary activists during the early 1920s to set up a commercial enterprise, ‘House of Labourers’ and saw himself and his friends as ‘Labourers’.

  • (Instituto de Investigaciones Históricas-UNAM1) In his memoirs published in 1964, Manabendra Nath Roy wrote that in the late 1910s “a mutation” occurred in his “political evolution: a sudden jump from die-hard nationalism to Communism”. A few lines later, he added: “It began in Mexico.”2Very little is known about M. N. Roy´s two-year stay in Mexico (summer 1917-December 1919) beyond what´s contained in his Memoirs, which suffer from the shortages and limitations common to autobiographical writing. Nonetheless, it is clear that Mexico played a special role in Roy´s dense and peripatetic life.

  • I Rosa Luxemburg was murdered in January, 1919; five years later Lenin died in January, 1924, in a condition which was no less tragic, as he had become a physical and mental wreck, as was so graphically portrayed by Alexander Sokurov in his canonical film Taurus. Immediately after the historic victory of the November Revolution Rosa Luxemburg wrote a pamphlet The Russian Revolution in which she expressed her fear and anxiety about the future of the world’s first socialist revolution.