December 2022 19th Year 27th Issue
Issue 230121134036 · Published January 2023
সংখ্যার বিবরণ
- সংখ্যা
- 230121134036
- প্রকাশনার বছর
- 2022
- ISSN
- 1488-0792
- ডিজিটাল প্রবেশাধিকার
- ৳200 / $2.00
- মুদ্রিত সংস্করণ
- ৳300 / $3.00
- প্রিন্ট + ডিজিটাল
- ৳500 / $5.00 + ডেলিভারি
ছবির কথা / About Cover Art
কিন্তু যেখানে শেষ সেখানেই আবার শুরু। আমার ছেলে জন্মানোর পর যেমন আমার মধ্যে মায়ের জন্ম নেয়, তেমনি আরও কিছুদিন পর ছবির জগতেও আমার নতুন করে জন্ম নেওয়া। পাই আবার নতুন এক জীবন, যেখানে আছে গতি, সৃষ্টি। সেখান থেকে যেন আমার বাবারও আমাকে নিয়ে আবার স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। আর ছবির বিষয় হয়ে ওঠে আমার দৈনন্দিন জীবন। জীবনের ভালো, মন্দ, বিশেষ করে মেয়েদের নানা সমস্যা, সামাজিক সমস্যা তার সঙ্গে কিছু হাসিঠাট্টা সবই আমার ছবির বিষয়।
“জীবন চক্র” ছবিটি বলতে গেলে আমাদের জীবনকে সামগ্রিকভাবে দেখার একটি প্রয়াস মাত্র। ছবিতে আছে মনুষ্য খুলি, ধুতুরা ফুল ও বীজ যা আমি ছবিতে খুব নান্দনিকভাবে বা নাটকীয়ভাবে সাজিয়েছি। এ আমার একটা নিজস্ব চিন্তা ভাবনা, যেখানে প্রকৃতি বেড়ে ওঠে প্রকৃতভাবে কিন্তু আমাদের বিচারবুদ্ধি সেখানে অনেক আলাদা, যা অনেক সৃষ্টির মাঝেও ভয়াবহ ধ্বংসের কারণ হয়ে ওঠে। ছবিটি ২০১৯ সালে লখনউ (ভারত) ললিতকলা ন্যাশনাল ক্যাম্প-এ আঁকা, তখন আমি MFA 3rd Semester-এ পাঠরত। ছবিটি অ্যাক্রিলিকে আঁকা।
আমি দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা নিয়েই বেশি ছবি আঁকি, তার মাধ্যমে আমি দর্শকদের অনুভূতির সঙ্গে একাত্ম হতে চেষ্টা করি।
শেষ পাতা / Back Cover
Explore the design and details featured on the back cover of ‘December 2022 19th Year 27th Issue’.
সম্পাদকীয় / Editorial
সম্পাদকীয়
বিশ্ব এখন তার স্বাভাবিকতায় ফেরার পথে এবং ইতোমধ্যেই ইতিহাস নিয়ে যাঁরা চর্চা করেন তাঁরা আগে ঘটে যাওয়া মারি ও মড়কের অভিজ্ঞতায় বর্তমান করোনার অভিঘাত নিয়ে হয়তো নানা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে মগ্ন। তবে আমরা চেয়েছি আমাদের চারপাশের সমাজে গেল দু বছর যাবৎ মানুষ যেসব সংকটের মুখোমুখি হয়েছে তার কিছু খণ্ডচিত্রকে তুলে আনতে। তাছাড়া এই বিশ্বমারি নিয়ে মানুষের মনে প্রচলিত স্বাস্থ্যবিধি, মুনাফামুখী চিকিৎসা-বিজ্ঞান ও গবেষণা, সর্বোপরি রাষ্ট্র ও প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে যেসব মত ও সন্দেহ রয়েছে সেসবেরও খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশে নিম্নবিত্ত, সহায়হীন মানুষেরা কীভাবে এই সংকটের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করেছে তার হদিশ নিতে বিভিন্ন সূত্রে জানার জন্য চেষ্টা করেও কোনও লেখা আমরা জোগাড় করতে পারিনি। এই ঘাটতির জন্য করোনার অভিঘাত সংক্রান্ত পরিবেশনায় আমাদের প্রত্যাশা অপূরণীয় থেকে গেল।
করোনার মোকাবিলায় রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত &ldqu...
প্রবন্ধ
-
রাজনৈতিক চলচ্চিত্র নির্মাণের চেয়ে চলচ্চিত্রকে রাজনৈতিকভাবে নির্মাণের প্রয়াসটাই বেশি চোখে পড়ে মৃণাল সেনের বেলায়। এর কারণ তিনি যে সময়ের ভেতর দিয়ে বেড়ে উঠেছেন, সেই সময়টি ছিল ক্রান্তিকাল, ঔপনিবেশিক শক্তিকে পরাজিত করতে চাওয়া জাতীয়তাবাদী চেতনার উত্থানপর্ব। মৃণাল সেন জন্মেছিলেন ১৯২৩ সালের বাংলাদেশে, ফরিদপুর অঞ্চলে। তাঁর বয়স যখন আট, তখন বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম’ গান গেয়ে মিছিলে অংশগ্রহণের দায়ে আটক হন তিনি। পুলিশের জিম্মায় ঘণ্টাখানেক থাকার পর রেহাই পান, নেহাতই বয়স কম বলে। রাজনৈতিক দীক্ষা তিনি পেয়েছিলেন আইনজীবী বাবার কাছ থেকে। সে সময়কার বিপ্লবী, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আইনি সহায়তা দিতেন মৃণাল সেনের বাবা দীনেশচন্দ্র সেন।
-
মহেন্দ্রলালের ভারতীয় বিজ্ঞান চর্চা সভা এবং ভারতে আধুনিক বিজ্ঞানচর্চার সূচনাপর্ব লেখক তুষার চক্রবর্তীPremium
“আমরা যে প্রতিষ্ঠানটি চাই তার কাজ হবে জনগণকে বিজ্ঞানশিক্ষা দেয়া। সেখানে নিয়মিত বক্তৃতার ব্যবস্থা থাকবে, বক্তারা বিষয়বস্তু বোঝাবার জন্য পরীক্ষা দেখাবেন, এবং শ্রোতাদেরও আহ্বান করা হবে সেইসব পরীক্ষা সম্পাদন করতে। আমাদের ইচ্ছা, প্রতিষ্ঠানটি থাকবে সম্পূর্ণভাবে স্বদেশী পরিচালনায় ও নিয়ন্ত্রণে।” (মহেন্দ্রলাল সরকার, বিজ্ঞানসভার প্রস্তাবনা) ভারতবর্ষের ইতিহাসে ১৮৭৬ সালটি অনেক দিক থেকেই একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। মহারানি ভিক্টোরিয়া এই বছর আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতমুকুট মাথায় নেন। যার ফলে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের হাতে ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তরিত হওয়া সুনিশ্চিত হলো। বিশ্বের সামনে প্রকাশ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কোহিনুর হিসেবে উদ্ভাসিত হলো ঔপনিবেশিক ভারত। ভারতবর্ষের নব্য-ভূস্বামী এবং নবজাত ভারতীয় শিক্ষিত বুদ্ধিজীবীরা কোম্পানির আমল পার হয়ে, মহারানির রাজত্বে ঠাঁই পেয়ে, যারপরনাই উৎফুল্ল হয়ে উঠেছিল।
-
দিনের আলো গত হওয়ার পর ছোটো কুপি বা লন্ঠনের আলোয় দাদি-নানিরা আসর বসাতেন। কিস্সার আসর। আধুনিক প্রযুক্তির বাড়বাড়ন্ত যখন গ্রামবাংলার কুঠিরে থাবা বসাতে পারেনি, তখন বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে গল্প বা কিস্সার আসর মানুষকে মগ্ন করে রাখত। এই আসরি বিনোদনের পরম্পরাটি আজ গ্রামের জীবন থেকেও হারিয়ে গেছে। টেলিভিশন বা অতি সম্প্রতি স্মার্টফোনের আগ্রাসী প্রভাব সমস্ত বয়সের মানুষের কাছেই নেশার সামগ্রী হয়ে পড়েছে। আজ মানুষের কাছে বিনোদনের বহুমাত্রিক স্তর উপস্থিত হলেও, কয়েক দশক আগে মানুষের কাছে বিনোদনের এই বহুমাত্রিক পরিসর ছিল না। মানুষ সীমিত কিছু বিনোদনের সংরূপেই মজে থাকতেন। তেমনই একটা বিনোদন হল ‘কিস্সা’। এই ‘কিস্সা’ শব্দটি এসেছে ফারসি শব্দ থেকে, যার অর্থ কাহিনি।১ তবে, আমাদের পরম্পরায় কিস্সা— গল্প বা কাহিনি থেকে নিজেকে কিছুটা স্বতন্ত্র রেখেছে। আদি-মধ্য-অন্ত সম্বলিত গল্প বা কাহিনির বাঁধাধরা গঠনের বাইরে কিস্সা তার প্লটে, প্রবহমানতাকে গুরুত্ব দিয়েই সেই স্বাতন্ত্র্যকে মান্যতা দিয়েছে। কিস্সার আখ্যানভাগ রূপকথা-রাজকন্যা-অর্ধেক রাজত্ব-দুষ্ট পুরুষের লালসা-মৌলবির লাম্পট্য-বোকা বৌ-এর বোকামি ইত্যাদি হরেকরকম ঝুলিতেই ভ
-
সততা-অসততা বলতে, সত্য এবং মিথ্যা বলতে ঠিক কী বোঝায় সে-সম্পর্কে কাজ চলবার মতো ধারণা আমাদের সকলের আছে। কাজ-চলতি সেই বোঝাপড়ার কোনও এক গভীরতায় ধরা পড়ে সত্য এবং সাক্ষ্যের নিবিড় সম্পর্ক। যা বাস্তব—ঘটমান বা অস্তিত্ববান—তার যথাযথ ও অবিকৃত বর্ণনাকে আমরা চিহ্নিত করি সত্যবচন বলে। আদালতের আইনে আমরা আস্থা রাখতে পারি বা না পারি, মানুষের নিয়মকানুনের, তার আন্তরিক নিয়মানুবর্তিতার ভিতজমি তৈরি হয় অস্তিত্ব ও তার বাণীরূপের এই সুস্থির সম্পর্কের মধ্য দিয়ে। আমরা ভাবতে পারি যে এই সুস্থিরতাকে পূর্বাপর বিঘ্নিত করে নয়, কিন্তু এরই অল্প পাশ দিয়ে, খানিকটা গা-আলগা দিয়ে কবিতার জন্ম হয়।
-
১৯৬৮ সালে পারি (Paris) যখন বিপ্লবী মাদকতায় আসক্ত, তখন শহরের দেওয়ালে একটি লেখা দেখা গিয়েছিল: “বাস্তবধর্মী হও। অসম্ভবের দাবি জানাও”। প্রথমদৃষ্টিতে বাক্যগুলি পরস্পরবিরোধী মনে হলেও, তার মর্মে কিন্তু একটা গূঢ় সত্য রয়েছে। তার কারণ, কোন ধরনের রূপান্তরমূলক রাজনীতি কার্যকর করার জন্য কী করা দরকার, কথাটি তারই নির্দেশ করে। রূপান্তরকামী রাজনীতির সূচনা হয় এক ভিন্ন জগৎ কল্পনা করে—এক ভিন্ন জগতের স্বপ্ন দেখে। আর সেই কল্পিত জগৎ শুধু ভিন্নই নয়, তা আমাদের দুনিয়ার চেয়ে আরও উৎকৃষ্ট মানের এবং আরও ন্যায়সঙ্গত। রাজনীতির পরের পদক্ষেপ হলো সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করা আমাদের ইহদুনিয়ার সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমে। এই কল্পিত জগতের এক তাত্ত্বিক নাম আছে—“ইউটোপিয়া” বা কল্পস্বর্গ, আর কল্পস্বর্গীয় চিন্তাধারাকে গুণীজনেরা একধরনের সামাজিক স্বপ্ন বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। রুথ লেভিটাসের মতে কল্পস্বর্গীয় স্বপ্ন “আরও ভালোভাবে জীবনযাপন করার এবং জীবনকে আরও উৎকৃষ্ট করার এক অধীর আকাঙ্ক্ষা”।১ আবার মার্ক্সবাদী দার্শনিক আর্নস্ট ব্লখ বলেন যে এই উন্নত বিশ্বের এবং উৎকৃষ্ট জীবনের আকাঙ্ক্ষা এক “আশার আদর্শ”২ দ্বারা পরিপূর্ণ। আমরা তাহলে বলতে প
-
Premium
জীবন এক মহাভারত। এই মহাভারতের যতটুকু মনে আছে, তার চেয়ে বেশি যে ভুলে গেছি। জীবন এক অনিশ্চিত ভ্রমণ, কোথা থেকে মানুষ যে যায় কোথায়? আমার স্বপ্ন ছিল অধ্যাপনা করব। স্বপ্নভঙ্গ হতে দেরি হয়নি। রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজে এক আলোচনাচক্রে আমি ও শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় আমন্ত্রিত হয়েছিলাম। আমি সূচনায় বললাম, একদিন এই ভবনের নিচ থেকে বিমর্ষ মুখে বাড়ি ফিরেছিলাম। চান্স পাইনি। ৪৮ পারসেন্ট পেলে কি এমএসসি-র কোনও এক শাখায় পড়তে পারা যায়? তারপর বর্ধমান, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে চেষ্টা। তাঁদের নিজেদের অধীনস্থ কলেজের বাইরের ছাত্রদের তেমন সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় এখন অনেক। পড়ার সুযোগ এখন অনেক। আমার হয়নি তখন। তাতে শেষ অবধি মন্দ কিছু হয়নি, কিছু একটা হয়েছে। শুধু অধ্যাপক হতে পারলাম না। কিন্তু সেই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছি তো। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেছি। সুতরাং যা হতে চেয়েছিলাম তা যেমন হয়নি, হয়েছেও। যা হওয়া খুব কঠিন সেই রাস্তায় নিজের মতো করে চলতে পেরেছি। লেখকের জীবন কঠিন জীবন। বড়ো পত্রিকা নিয়েছে, নেয়নি। সবচেয়ে কঠিন সময় হলো, টের পাওয়া, লেখাটি হয়তো ঠিকঠাক হয়নি। মনে হয় হয়নি। আবার মনে হয়, আমি একই লেখা লিখছি। আগের লেখাকে
-
একবার ট্রেনে এক হিন্দিভাষী তরুণ প্রকৌশলীর অদ্ভুত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল, সে জানতে চেয়েছিল—‘বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নতুন নতুন খোঁজ পাওয়া যায়, জীবনের নানা ক্ষেত্রে সে খোঁজ কাজে লাগে, কিন্তু সাহিত্য গবেষণার কাজ কী? সাহিত্যে আমরা কী খুঁজে পাই, তার গুরুত্বই বা কী?’ প্রশ্নটা ‘অদ্ভুত’ এই কারণে, জানতাম সাহিত্য সম্পর্কিত একটা প্রচলিত সীমাবদ্ধ ধারণা থেকে প্রশ্নগুলির জন্ম, তবে প্রশ্নগুলি করার মাঝে সাহিত্যকে ছোটো করে দেখার মানসিকতা ছিল না, ছিল সাহিত্যের গুরুত্ব সম্পর্কে জানার কৌতূহল। আমি তার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে গল্পের ছলে বৈদিক যুগ বা প্রাচীন ভারতের মানুষ, সমাজজীবন, অতীত সময় সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন করে বসি। উত্তরে বলেছিল, তাহলে আমাদের ইতিহাস কিংবা বেদ, উপনিষদ, অন্যান্য প্রাচীন সাহিত্য পড়তে হবে। আমি তাকে বলেছিলাম ‘আসলে সাহিত্যের সার্থকতা এখানেই, যা বিজ্ঞানে খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। সাহিত্য গবেষণার মূল অন্বেষণ সেখানেই, যেখানে বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সেখানে সাহিত্য বিজ্ঞানকে দেখিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি অন্বেষণের উদার উন্মুক্ত পথ, সাহিত্য এখানে নতুন খোঁজের দিশারি। প্রতিটি বিষয়ই সাহিত্যের অংশ, আবার
-
Premium
এখন হয়তো মানুষকে এইভাবেই চলতে হবে—সাবধান-সাবধান-সাবধান—ব্যাস, শুধুই সাবধান। রাস্তাঘাটে চেনা-জানা কারোর সাথে দেখা হলেই তার মানে সাবধান—সাবধানে দাঁড়াও, সাবধানে কথা বলো, সাবধানে চলো, সাবধানে থাকো, সাবধানে টাকা-পয়সা খরচা করো, মানে সাবধান জীবনেরই আর এক নাম হয়ে গেছে, যেন এই করোনাকালে লকডাউনের আগে কক্্খনো মানুষ সাবধানে ছিল না। এখন মানুষের জন্য ‘সাবধান’ শব্দটা এতই জরুরি হয়ে গেছে। আসলে, মানুষকে যে এত বড়ো একটা খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে, এই দিন যে দেখবে এটা কোনওদিনই কোনও মানুষ কল্পনাও করতে পারেনি। করোনায় মানুষের মৃত্যু দেখেই কত কত ভালো সুস্থ মানুষও হার্টফেল করেছে। শুধু কি এ দেশেই, পুরো দুনিয়াতেই হুট হুট করে কত কোটি কোটি মানুষ মারা গেছে। এ কী ভাইরাস যার ছোঁয়া লাগলেই, নাকের জলের মুখের জলের ছিটা লাগলেই করোনার শিকার হয়ে যাচ্ছে মানুষ! কত সাবধানেই না ডাক্তার করোনা রুগিদের নিজের জীবন বাজি রেখে চিকিৎসা করে যাচ্ছে। ডাক্তার, নার্স বা হাসপাতালে আর যারা রুগি সেবা করার লোক আছে, তাদের যতই সালাম করা যাক তাও যেন কম। তবুও ভগবান যেন তাদের ভালো রাখে, সুস্থ রাখে এটাই বলব।
-
সমগ্র বিশ্বে গত দু-তিন বছর ধরে যে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে করোনা বিশ্বমারিকে (Pandemic) কেন্দ্র করে তা এককথায় অভূতপূর্ব। স্মরণাতীত কালের মধ্যে সমগ্র পৃথিবীতে এমন দুর্বিপাক মানুষ আগে দেখেনি। এই বিশ্বমারিকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চলছে নানাবিধ বিশৃঙ্খলা, যাতে সর্বস্তরের মানুষ-–বিশেষত সমাজের নিচুতলার অসংখ্য মানুষ চরম দুর্দশায় নিমজ্জিত। বিশেষ করে ভারতবর্ষে এই বিশ্বমারিকে কেন্দ্র করে চলছে নানাবিধ সামাজিক নিপীড়ন ও বিশৃঙ্খলা। এই বিশ্বমারিকে নিয়ন্ত্রণ করার নামে বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি নির্দেশে চলেছে বলগাহীন লকডাউন। এর ফলে ভারতবর্ষে দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭,৩৩৩ কোটি টাকা। ৫৪ দিন লকডাউনের ফলে মোট ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২০,১৫,৯৮২ টাকা। এরই পরিণামে ৪০ কোটি জনসাধারণের জীবনে নেমে আসে চরম সংকট—অর্থনৈতিক ও সামাজিক। এই বিশ্বমারির কবলে অগুনতি শ্রমজীবী মানুষের হয়েছে অকাল মৃত্যু এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ হয়েছে নিঃস্ব-রিক্ত। এই বিশ্বমারির কবল থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার চাইতেও বেশি উদ্যোগ দেখা গেছে সামাজিক নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি করে সেগুলি এড়িয়ে যাওয়ার। করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক সৃষ্ট
-
সম্পাদকের নির্দেশ/পরামর্শ/অনুরোধ-এর তাড়নায় বর্তমান রচনাটির জন্ম। শুনিলাম এবং বুঝিলামও, অতঃপর জনজীবনে ‘নভেল করোনা’র অভিঘাত লইয়া এই পত্রিকায় বিচিত্র অলঙ্কার ও ব্যাকরণে ভূষিত প্রবন্ধ/নিবন্ধের উজ্জ্বল সমাগম ঘটিবে। রচনা প্রকাশিত হইলে লেখকের পুলক জাগে, সম্পাদকও ভাবেন পরিশ্রম সার্থক – ইহাই দস্তুর। তবে পরিতাপের কথা এই যে, পত্রিকার ক্রেতা জুটিলেও পাঠক জুটিবে কিনা এমন সংশয় রহিয়া যায়, জুটিলেও তাহা যৎকিঞ্চিৎ – ইহাও আজিকার দস্তুর। তা ভিন্ন, লিখনশৈলীর অভিঘাতে সমাজজীবনে সচরাচর কোলাহল সূচিত হয় না, ব্যতিক্রম কোটিতে গুটিক। এই দেশ ‘স্মৃতি’ ও ‘শ্রুতি’র দেশ, তাহার রেশই ব্যাপ্ত হইয়া থাকে। তথাপি পাঠকের সহিত কথোপকথনের লোভ জাগে, তাই কালিকলম হইতে রচনাও অনন্তপ্রসবা।
কবিতা
-
ফরাসি ভাষায় একেবারে প্রথম দিকের একটি সাহিত্যকর্মের নাম সন্ত আলেক্সিসের গীত। একাদশ শতকে এটি রচিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এই সংকলনে রয়েছে ৬২৫টি গীত। ৮ম থেকে চতুর্দশ শতক পর্যন্ত ফরাসি ভাষার যে রূপ ছিল তাকে বলা হয় ‘প্রাচীন ফরাসি’ এবং এই প্রাচীন ফরাসিতেই লেখা হয়েছে সন্ত আলেক্সিসের গীত।
-
তোমার অবজ্ঞা (সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য) কী দিয়ে তৈরি তোমার অবজ্ঞার রঙ? সেখানে কি মেঘ ছিল কোনও? ছিল কি ওপরে ওঠার তাড়া?
-
তোমার শরীর জুড়ে অপার্থিব জ্যোৎস্নার গুঁড়ো সহসা সমুদ্র হয়ে যায় ঢেউগুলি পরস্পর ভেসে যায়
-
তোমার অলস ফল চেখে দেখি আমিও নির্বাক ঘটনা যেমন হয়, তেমনই তো ঘটনা ঘটায় ফুলের ভিতরে থাকা সরু সরু পথের ভাষায় সে কোন নির্জন আছে, যে আমায় করে পরিপাক!
-
হে পৃথিবী তোমার প্যালেস্টাইন কাঁদছে। সর্বশেষ কষ্টে কাঁদছে মাঝিপাড়া; বেদনায় কাতরাচ্ছে বি. বাড়িয়ার ভূমি-অফিস, ট্রেন-স্টেশন। কাঁদছে—শচীন-কর্তার জ্যোৎস্নাভেজা ডাকাতিয়া বাঁশি। সিরিয়ার খেজুর পাতারা শূন্যে দিয়েছে উড়াল—শিশু আইলানের লালশার্ট কেড়ে নিয়েছে ভূমধ্যের নীল-বালি-জল। বাগদাদের রোদেরা বলেছে—আমরা মার্কিন মার্কিন খেলতে খুব ভালবাসি। ইয়েমেনের শিশুরা মরুর বালির মর্ম বোঝেনি--বুঝেছে ইসরাইলের হিংস্র চোখ, খুঁজেছে আল-আকসার পবিত্র শরীর। কাবুলের কলসির মতো নারীরা আবারও বোরখার ভাঁজে লুকিয়েছে মুখ। উগাণ্ডার ধূলিময় হাওয়ায় উড়ছে—শান্তির নোবেল। শাহবাগের প্রতিবাদগুলো ব্যানারেই বন্দি হয়ে যাচ্ছে। জলবায়ুর মতো বদলে যাচ্ছে প্ল্যাকার্ডের লেখা মানবতা।
-
তুফানি ঠান্ডার পর্দাজোড়া বিজ্ঞাপন থেকে টুপ করে নেমে এল এক বিন্দু টলমল, তোমার শিমুল গ্রন্থি থেকে তুলোর বীজ ছুটি নিয়ে ভেসে গেল বাতাসহীন অন্য জন্মের দিকে, আমি তার দামাল রৌদ্রের বুকে
-
তথাগত পৃথিবীর বিষণ্ণ মানুষেরা আমাকে টানে— যেভাবে সলজ্জভঙ্গিতে ফুল ছড়িয়ে যায় ঘ্রাণ খুব গভীরে যেন রূপান্তরিত শিলায় ফুটে ওঠে রঙ!
-
বেহুলা বাংলা -১ আমাদের আজন্ম ব্যর্থতার দায় মায়ের মতো রাখো আঁচলে নিভৃতে গোন দিন দরিদ্র কিষাণী যেমন সুখদ নিদ্রায় দেখে স্বপ্ন সন্তানেরা হবে সফল
-
Manabendra is mainly known in both Bengals as a great translator of poetry, introducing the Bangali reader to different poetic voices from various parts of the world. Poetry from Africa, Latin America, the Caribbean, west Asia, and Eastern Europe, among other regions, reached us through his unceasing dedication to ‘world literature’ and poetry of resistance and dissent. His translations tried to offer the reader a directly poetic, rather than mediated, experience of other spaces, and it takes a little effort to remember when we read them that they were not written in Bangla. To achieve this effect Manabendra used a master craftsman’s skills in Bangla language, metrics and rhythms. Where needed he innovated in the language and the styles creating, what I would call, a new kind of Bangla poetry, a gift to fellow poets and readers. But, most importantly, what needs to be stressed is that he could not do this if he himself were not a remarkable poet. He left us a body of notable self-authored literature, most notable among them are his books of poems. These books are taste-changing and amazing reading experiences, unlike anything else that passes as poetry in Bangla poetic aesthetic.
-
One of the earliest texts composed in French is said to be Chanson de Saint Alexis, a collection of a total of 625 verses composed during the 11th century in Old French, a language spoken in France between the 8th and 14th centuries. According to Gaston Paris (1894-1903), a specialist in medieval French literature, these verses were composed around 1040 at the earliest.
গল্প
-
Premium
বসে থাকতে থাকতে চোখদুটো লেগে এসেছিল তপতীর। একটা মাঝারি ধাক্কা দিয়ে নড়ে চড়ে চলতে শুরু করেছিল ট্রেনটা। তিনি চোখ মেলে তাকালেন। শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেসের সঠিক টাইমের ঠিক পাঁচ মিনিট পর ট্রেনটা ময়াল সাপের মতো ধীরে স্টেশন চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে এল।
-
শ্রেণি নির্বিশেষে সব ভারতবাসীই জানে যে থানা কোনও শপিংমল কিংবা সিনেমা হল কিংবা পার্ক নয়। ইচ্ছে হলেই সেখান থেকে ঘুরে-বেরিয়ে আসা যায় না। যেতে বাধ্য হলে বেরিয়ে আসার পথটা সহজ করে রাখতে মুরুব্বি গোছের মানুষকে সঙ্গে রাখতে হয়। তেমন মুরুব্বি না পাওয়া গেলে অন্তত সঙ্গী জোগাড় করার চেষ্টা করতে হয় যাতে বিপদের খবরটা পাঁচকান হয়। চেষ্টা, কারণ সঙ্গী পাওয়াটা অত সহজ হয় না। বিনা কারণে তো আর বন্ধুর সংজ্ঞা বিষয়ক শ্লোকটা তৈরি হয়নি। সুতরাং হাতে-পায়ে ধরেও দু-একজনকে সঙ্গী হতে রাজি করাতেই হয়।
-
Lahore, November, 1988 Day one ...I arrive in Lahore …my first visit…to attend a seminar on human rights Accompanied by a dear young friend, Smitu Kothari. I meet an old friend – I.K. Rahman, a well-known journalist and a leading figure in the human rights movement in Pakistan (Rahman-Sahb, as he is so endearingly known to all of us in India)…He takes us to a street eating joint ... serving excellent kebabs..
-
Introduction This year marks the centenary of Syed Waliullah’s (1922-1971) birth. A pioneering writer whose life has been cut short at the age of forty-nine by a brain hemorrhage, he is more often mourned than celebrated. During his brief but productive life, he published three novels, three plays, and two collected volumes of short stories. But given the depth of its influence, this rather diminutive body of work is often ranked among the finest ever produced in Bangla language. Waliullah also wrote fiction and non-fictional essays in English—some of which were published in newspapers and magazines. However, his literary reputation is predominantly established on the foundation of his novels and short stories, most notably on his first and second novels Laal Shalu [Tree without Roots] (1948) and Chander Amaboshya [The Eclipse of the Moon] (1964).
-
A Shift to Regional History: A shift to regional history has begun from the beginning of the last decade of twentieth century.1 Dalit literature and culture is stated to work in postcolonial India as an emerging new identity to rebuild society and is working as a most creative Marxism.2 It talks of the innovation of Dr B.R. Ambedkar who wanted to see the change in religious, social, political, economic and educational areas. He wanted the socialism in all these fields through ‘State Socialism’.3 This article expands the regional history of four dalit women of eighteenth century Bengal. The first case study shows the political consciousness to revolt against the East India Company rule which happened to commence in Bengal in the middle of the eighteenth century. The second case examines the thirst for education due to birth in an uneducated low caste family of that time. The third case study examines holy love for equality through the exercise of the Bhakti-cult movement of Vaishnavism in anyone’s personal life, while the fourth case examines religious mental oneness with gods and goddesses, particularly in someone’s devotion with Hindu goddess Kali. They all four were born in the lower strata of society. They are mentioned here in chronological order, serially: 1. Rani Siromani4 ( ? -1816) of Jangalmahal of Medinipur district; 2. Sulochana5 (1776-1866) of village Thakurkona of Mymensingh district; 3. Rami Dhopani6 (?-?) of village Saltora near Gangajalghati police station of Bankura district; and 4. Rani Rasmoni7 (1793-1861) of Kona village near Halishahar of 24 Parganas district.
-
Premium
“How many ages hence / Shall this our scene be acted over / In states unborn and accents yet unknown?” (3.1.111-13) Cassius in Julius Caesar This is quite a challenging topic I have willfully chosen to explore. Sheikh Mujibur Rahman, the architect of the country Bangladesh, adorably called Bangabandhu, was cruelly murdered in his own house along with his wife, three sons, two daughters-in-law, and a younger brother in the early hours of August 15, 1975. It was a small contingent of some junior to middle-ranking disgruntled army officers who masterminded the offensive at the execution level. Along with Bangabandhu’s house at 677 Dhanmondi, Road Number 32, they also separated into groups and attacked two more houses in the same hours to kill Bangabandhu’s close relatives, Abdur Rab Serniabat, who was Bangabandhu’s own sister’s husband and a minister at the time, living on Minto Road, and Sheikh Fazlul Haque Moni, Bangabandhus’s other sister’s son along with his pregnant wife, who was a Dhanmondi resident. In total 20 people were killed in those three houses. This macabre happening was an outcome of a deep-set conspiracy plot led by one of Bangabandhu’s close allies and long-time party leader, Khondaker Mostaq Ahmad, with tacit support from the then Deputy Chief of Staff, Major General Ziaur Rahman.
-
By 1971 the United States Senate had become a forum for dissent from the foreign policy of Richard Nixon. The contention was primarily grounded in the domestic conflict over the Vietnam war. Still, the Pakistan crisis provided another case that helped illustrate the foreign policy arrangements—and perhaps brighten the political images—of several senators and members of Congress. The Pakistan crisis erupted in late March 1971, and the machinery of the Congress worked quickly to formulate and articulate a position on the matter. Late in the spring, Congress attempted to ban both military and economic aid to Pakistan to construct a legislative barrier to Nixon’s foreign policy, which the White House argued tied the president’s hands. The administration successfully averted those barriers through covert operations, making the Congressional resolution moot. But in the process, a combination of media pressure and Congressional pressure focused intense security upon the means of the Nixon administration and, while losing the particular battle, made severe inroads into making the executive more accountable for the conduct of American foreign policy.
-
“Rations did come, but who did they go to? Those who live in flats. Those who live in houses. Those who have some connection, those who make themselves known, they were getting the rations. They were getting 5 kilos or 10 kilos of ration — chal, dal, etc. But how many are there who are living in this small room or that - who have nothing much of an address? They survive from day to day. They work, and they eat. Day by day, they earn something and they eat. They have no ration cards. Those families who in the past might have spent 150 or 200 at the market, they now have nothing. From day to day, they are eating nothing. And then what happens to them? They are dying also. When someone would come to give out food — those people who from there own pockest would come to give – people from all around would come running. For their stomachs, all people will sacrifice their shame. Who knows if people are dying of corona or dying of hunger? When people are dying, their loved ones do not even see the bodies. They are packing up the dead bodies, wrapping them in white plastic sheets, and taking them away. No one knows where they are taking those bodies. Or maybe they are admitted to the hospital? Maybe it is corona? People only hear that they have died. Where they are taking the bodies, or who has taken the body, they don’t know. Whether they burned the body, or just tossed it somewhere, or buried the body – who knows? They are just packing them up and then they are taken away. Who knows how many are dying and why they are dying? You can’t count how many people have been dying all around, the way that you can sit and count money.”